আবারো ইন্দ্র পতন । প্রয়াত কবি শঙ্খ ঘোষ।
ভয়েস অফ দুর্গাপুর,ওয়েবডেস্ক:বাংলা সাহিত্য জগতে ইন্দ্রপতন। কবি শঙ্খ ঘোষের জীবনাবসান। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। ১২ এপ্রিল থেকে সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। পরে তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বর্ষীয়ান কবি হাসপাতালে যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাই হোম আইসোলেশনেই চলছিল চিকিৎসা। আজ সকালে বাড়িতেই জীবনাবসান হয় শঙ্খ ঘোষের। প্রয়াণকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। প্রবাদপ্রতিম কবির মৃত্যুতে শোকের ছায়া বাংলার সাহিত্যিক মহলে।বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবির শেষকৃত্য করা হবে বলে আগেই ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। তবে কবির শেষবিদায়ের সময় তোপধ্বনি দেওয়া হবে না জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কবির প্রতি শোকজ্ঞাপন করে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদার কবিকে শেষ সম্মান জানানো হলেও ‘গান স্যালুট’ বাদ রাখা হবে। কারণ, তোপধ্বনি পচ্ছন্দ করতেন না কবি। পাশাপাশি, কবির পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী আড়ম্বরহীন ভাবেই তাঁকে শেষ সম্মান জানানো হবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
১৯৩২ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার চাঁদপুরে জন্ম।বাবা মণীন্দ্রকুমার ঘোষ ও মা অমলা ঘোষ।ভালো নাম চিত্তকুমার ঘোষ।প্রেসিডেন্সি কলেজে বাংলা ভাষা নিয়ে স্নাতক পাঠ।কলকাতা বিশ্বিবদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর।পড়াশোনা শেষে করে অধ্যাপনাকেই বেছে নেন। সিটি কলেজ, বঙ্গবাসী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন।১৯৬৭ সালে আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক লেখক কর্মশালায় যোগ দেন। এর পর পড়িয়েছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, সিমলার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ১৯৭৭ সালে। ওই বছরই নরসিংহ দাস পুরস্কার পান।
১৯৮৯ সালে ‘ধুম লেগেছে হৃদকমলে’ কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’–র জন্য সরস্বতী পুরস্কার পান।
১৯৯৯ সালে বিশ্বভারতী দেশিকোত্তম পুরস্কার প্রদান করে।
২০১১ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কার পান।
২০১৬ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার।
কবিতার পাশাপাশি রবীন্দ্রচর্চাতেও উল্লেখ্য ভূমিকা নিয়েছেন তিনি।
তাথ সূত্র :এবিপি,আনন্দবাজার,আজকাল,বর্তমান ,প্রতিদিন পত্রিকা ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন